১১ জনের টিম করে একটা স্টার্টআপ শুরু করছি । মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম (রাফি)

আসসালামু আলাইকুম। আমি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম (রাফি)। আজ আমি আপনাকে শেয়ার করব আমার গল্প! আমি সেই ২০১৬ সাল থেকে আইটি নিয়ে ঘাটা-ঘাটি শুরু করি। পড়ালেখার চেয়ে আইটি, ফ্রিল্যান্সিং এর দিকেই মনোযোগ বেশি ছিল। নিজের পড়ালেখা বাদ দিয়ে আমি সারাক্ষন কম্পিউটার, ইন্টারনেট নিয়ে পরে থাকতাম। আমি বেশির ভাগ সময় গুগোল ও ইউটিউব থেকে বিভিন্ন কিছু শিখার ট্রাই করতাম। প্রথমে ভাবলাম, ওয়েব ডিজাইন শিখে একজন ভালোমানের ডেভেলপার হবো। যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। এগিয়ে চলতে লাগলাম ওয়েব ডিজাইনের রাস্তা ধরে। শুরু করলাম এইচটিএমএল, সিএসএস শেখা। ভালো গাইডলাইন এর অভাবে প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হতো শিখতে। কিন্তু তবুও হাল ছাড়িনি। যখন মোটামুটি এইচটিএমএল, সিএসএস শিখলাম তখন বুঝতে পারলাম যদি আমি ওয়েব সেক্টরে কাজ করতে চাই তাহলে এইটুকু শিখে তেমন কিছুই করতে পারবোনা, আমাকে আরো অনেক কিছু শিখতে হবে।  শিখার চেষ্টা করে যেতে লাগলাম। কিন্তু শিখতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতো। সবচেয়ে বড় যে সমস্যার মুখোমুখি হতাম সেটা হচ্ছে জম্পিং। একটা জিনিস শিখতে শিখতে হঠাৎ করে সেটা বাদ দিয়ে আবার নতুন একটা পথে। কখনো ওয়েব ডিজাইন, কখনো এসইও আবার কখনো ইউটিউবিং। এইভাবেই কাটতে থাকলো আমার দিন।

এরপর আবার জাম্পিং !!! ১ বছর জব করলাম। প্রথমে জব করতাম অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ নামক এক প্রতিষ্ঠানে। কয়েক মাস পর এই কোম্পানী ছেড়ে চলে গেলাম আলমানাহিল ইসলামিক ফাউন্ডেশনে। সেখানে আইটি অফিসার হিসেবে যোগদান করলাম। কিন্তু জব করতে খুব একটা ভাললাগতো না। স্বপ্ন দেখতাম আমি নিজে একটা প্রতিষ্ঠান বানাবো, সেখানে কাজ করবে হাজার হাজার বেকার মানুষ। এসব চিন্তা করতে করতে এক সময় জব ছেড়ে দিলাম।

 

আবার শুরু করলাম ফ্রিল্যান্সিং। একটা ব্লগসাইট করলাম। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেখালেখি করতাম। এক সময় ব্লগে এডসেন্স এর জন্য আবেদন করলাম। এডসেন্স এপ্রুভ হলো, আমার ইন্টারনেট থেকে ইনকাম শুরু হলো। ব্লগিং করতে করতে এডসেন্স এ ইনকাম হলো ৮ ডলার। আমি মনে মনে খুব খুশি হয়েছিলাম যে ইন্টারনেট থেকে কিছু আয় করতে পেরেছি। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো আমি এই ৮ ডলার তুলতে পারবোনা। কেননা, এডসেন্স কখনোই ১০০ ডলার না হওয়া পর্যন্ত তুলতে দেয়না। চালিয়ে যেতে লাগলাম ব্লগিং!

 

এইভাবে ২০১৯ সাল চলে আসল। হঠাৎ ,একটা বিজ্ঞাপন দেখলাম, যেইটা ছিল প্রিয় প্রতিষ্ঠান কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশ! পিকেএসএফ এর সহায়তাই ৩ মাসের ফ্রি আইটি ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষন এর ব্যবস্থা করে। যেখানে আমি কোর্স করার সুযোগ পেয়েছিলাম। ভর্তি হলাম, ক্লাস শুরু হলো। শুরু হলো আমার আবার নতুন করে ফ্রিল্যান্সিং শেখা। খুব ভালো মতো সবকিছু শিখতে লাগলাম। সত্যি কথা বলতে কি  টিচার এবং মেনেজমেন্ট এতটাই দক্ষ এবং আন্তরিক যে, তারা এমনভাবে প্রশিক্ষন দিতেন যে অমনোযোগী শিক্ষার্থীরও তাদের কথা খুব মন দিয়ে শুনতো। তারা সকল সময় বিভিন্ন ধরনের টিপস এবং ট্রিক্স শেখাতেন। তাদের টিপস এবং ট্রিক্স এর কারনে আমি কোর্স চলাকালীন সময়েই একটা প্রজেক্টে কাজ করে ১০০ ডলার ইনকাম করি। কাজটা ছিল প্রোডাক্ট লিস্টিং এর উপর। বর্তমানে ভাল ইনকাম হচ্ছে! আমি সত্যিই PKSF এর প্রতি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।

 

এখন আমি ও আরো কয়েকজন মিলে, ১১ জনের টিম করে একটা স্টাটআপ শুরু করছি। যেই টিমের মাধ্যমে আমরা সকল আইটি রিলেটেড সার্ভিস দিয়ে থাকি। পাশাপাশি “ফ্রিল্যান্সিং একাডেমি” নামে একটি আইটি প্রশিক্ষন কেন্দ্র চালু করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। যেটা ২০২০ সালের প্রথম দিকে চালু করব ইনশাআল্লাহ। যেখানে আমরা লাইভ প্রজেক্টের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কাজ শিখাবো। যাতে করে তারা আমাদের কাছ থেকে একটি পুর্ণাঙ্গ শিক্ষা পায়। দোয়া করবেন আমার জন্য, যেন আমি এবং আমার টিম আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি।

 

মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম (রাফি)
সিইও
হেল্পটেকবিডি